লাবণ্যের উবার চালক ব্যবহার করেছেন ভুয়া

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ওই মোটরসাইকেলের চালক সুমন হোসেন ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে উবারে নিবন্ধন করিয়েছেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টের ঠিকানাও ভুয়া।”

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্যের।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস উবার মোটোর একটি মোটরসাইকেলে করে শ্যামলীর বাসা থেকে মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন তিনি। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে একটি কাভার্ড ভ্যান ওই মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।

তাতে লাবণ্য মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান এবং কভার্ড ভ্যানটি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, তাদের মনে হয়েছে মূল দোষ কভার্ড ভ্যান চালকের। পাশাপাশি উবারের রাইডারেরও দোষ ছিল।

“উবারের রেজিস্ট্রেশন করা যিনি চালক, উনি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পেছনে যে ছিল (কভার্ড ভ্যানের চালক), তিনিও বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন।

“যেহেতু মোটরসাইকেলের চেয়ে কভার্ডভ্যানের গতি বেশি, তাই দ্রুতগতিতে ক্রস করার সময় মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে পার হয়ে যায়। ধাক্কার কারণে লাবণ্য মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে চাকায় পিষ্ট নিহত হন।”

গত শনিবার রাতে ওই কভার্ডভ্যানের চালক আনিসুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার আগে মোটরসাইকেল চালক সুমনকে আটক করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন উপকমিশনার বিপ্লব।

তবে তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আনিস ও সুমন দুজনকে ঢাকার আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

লাবণ্যের মৃত্যু: দুই চালকই রিমান্ডে

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব বলেন, দুর্ঘটনার পর সুমন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেটাও ছিল ভুয়া। পুলিশের পক্ষ থেকে বহুবার উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি।

ঠিকানা যাচাই না করে সুমনকে চালক হিসেবে নিবন্ধন দেওয়ায় উবার কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না মন্তব্য করে বিপ্লব সরকার বলেন, “তদন্তে যার ত্রুটি পাওয়া যাবে তাকে আইনের অওতায় আনা হবে।”

বাংলাদেশে উবারের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আলী আরমানুর রহমানও পুলিশের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সহযোগিতা না করার বিষয়ে কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করা, পুলিশকে সহযোগিতা না করা, যাত্রীর মৃত্যুর মতো ঘটনায় দায়িত্ব না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করেন আরমানকে।

তিনি শুধু বলেন, “দুর্ঘটনাটি পীড়াদায়ক। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।”

এক সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান- নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স না নিয়ে উবার বাংলাদেশে যেভাবে ব্যবসা করছে, তা আরমান অবৈধ বলে মনে করেন কি না।

উত্তরে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে উত্তর দেওয়ার মতো কোয়ালিফায়েড নই।”

এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে উবারের একজন মুখপাত্র লিখিত বিবৃতিতে বলেন, “মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনার খবরে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহত আরোহীর পরিবারের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আমাদের দিক থেকে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। চালক ও আরোহীদের নিরাপত্তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু আমাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত।”