নোয়াখালী সুবর্ণচরের বিস্তৃত অঞ্চলে সূর্যমুখী ফুলের হাসি

সুবর্ণচর উপজেলা) প্রতিনিধি। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের লবণাক্ত জমিতে বাড়ছে সূর্যমুখী’র চাষ । এতে সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যাহ, মোহাম্মদপুর, পশ্চিম চরবাটা, চরজব্বার, চর জুবলী ও চর ওয়াপদাসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ত মাঠ জুড়ে এখন পরিপক্ক সোনালী সূর্যমূখী ফুলের সমারোহ। কিছুদিনের মধ্যেই এ ফসল কাটা শুরু হবে। এতে স্বল্প খরচে বাম্পার ফলনে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। মূলত লবণ সহিষ্ণু এ ভোজ্য ফসল আবাদে দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। কৃষি বিভাগ বলছে, এতে অনাবাদী জমির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পূরণ হবে স্থানীয় সূর্যমুখী তেলের চাহিদা। মাঠের পর মাঠ ছেয়ে আছে হলুদের আভায়। যে দিকে চোখ যায় সেদিকেই হলুদের ছড়াছড়ি। চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এক অপরূপ সৌন্দর্য। রাস্তার দু’পাশের মাঠের দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায় ভোজ্য ফসল সূর্যমুখীর বাহারি শোভায়। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সূর্যমূখী ফুলের চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদন হবে ২৬৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমূখীর উৎপাদন হবে বলে মনে করেন সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এই জেলায় গত কয়েক বছরে সূর্যমূখীর চাষ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলেও চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়েও প্রায় শত হেক্টরের বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। চাষিদের এই চাষে আকৃষ্ট করতে এসব ক্ষেতে গ্লোব এগ্রোঃ বিনামূল্যে জমি চাষ ও বীজ, সরবরাহ করছে এবং চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফুলের বীজ সংগ্রহ, রোদে শুকানো এবং তেল তৈরির কলাকৌশল হাতেনাতে শিখিয়ে দিচ্ছে। অন্য দিকে তাদের তথ্য মতে তাদের উদ্যোগে সূর্যমুখী চাষের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়ান এইড’ এর সহায়তায় ‘কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তা প্রোগ্রাম’ এর আওতায় এ বছর কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর বেসরকারি সংস্থা গ্লোব এর সার্বিক সহযোগিতায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য ও পরামর্শে বাম্পার ফলন পাবেন কৃষকরা। সূর্যমুখী চাষের ব্যাপারে গ্লোবের কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান সিটিজি পোস্ট অনলাইনকে বলেন, তারা কৃষকদের জমি চাষ থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত কৃষকদের সঙ্গে থাকছেন এবং তাদের অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করছেন। তিনি জানান, গ্লোবের এ কর্মসূরি আওতায় সুবর্ণচর উপজেলায় সূর্যমুখী চাষে তাদের পাশাপাশি অর্ধশত চাষি সূর্যমুখী চাষের সঙ্গে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন সময় কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছেন। চাষিরা জানান, স্থানীয় গ্লোবের পরামর্শে দীর্ঘদিন ধরে পতিত থাকা জমিতে গতবছরই প্রথম সূর্যমুখীর চাষ করে গ্লোব কৃষি খামার। লবণাক্ত জমিতে, অল্প পরিশ্রম ও খরচে ভালো ফলন পাওয়ায়, এতে সূর্যমুখী চাষের ব্যাপারে আগ্রহ বেড়েছে তাদের অনেকের। কিন্তু বীজ বপনের কিছুদিনের মধ্যে তারা নানা পানি সংকট সহ ফসলের বিভিন্ন পোকার আক্রমনের শিকার হন। কোন কৃষি কর্মকর্তার দেখা না পেয়ে নানা ভাবে সার কীটনাশক ব্যাবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন কৃষকরা । তবে গ্লোবের সহযোগিতার কথা বারবারই উঠে আসে প্রতিটি কৃষকের মুখে । রবি মৌসুমে চরের পতিতে জমিতে সূর্যমুখীর চাষ বাড়াতে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে বলে জানান উপজেলা সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর রহমান। এবং তিনি কৃষকদের অভিযোগের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেননি এ কর্মকর্তা ।